বাংলাদেশে মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে বিষয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট এ রায় দেন এবং সম্প্রতি এর ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, মুসলিম পারিবারিক আইনে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার স্ত্রীর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের। প্রচলিত আইনে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ- এমন কোনো বিধান নেই। এ মামলায় রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও তানজিলা রহমান জুই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী কোনো মুসলিম পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। তবে এই আইনে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ’- এই ধারণা সরাসরি আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আদালত মন্তব্য করেন।
আদালত আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত, তাই শুধু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনের কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সামর্থ্য ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে- এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।
আইনগত প্রেক্ষাপটে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর মুসলিম পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা রিট করেছিলেন।
উল্লেখ্য, সালিশি বা আরবিট্রেশন কাউন্সিল তিন সদস্যের- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (কাউন্সিলের প্রধান), স্বামীর পক্ষে একজন প্রতিনিধি এবং স্ত্রীর পক্ষে একজন প্রতিনিধি।