বলিউডে সুস্মিতা সেন ও রাবিনা ট্যান্ডনের মতো অভিনেত্রীরা যেমন বিয়ের আগেই মাতৃত্বকে বেছে নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনই দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী শ্রীলীলাও অল্প বয়সেই মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে, ২০২২ সালে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম দুই শিশু গুরু ও শোভিতাকে দত্তক নেন। এরপর ২০২৫ সালে আরও এক কন্যাসন্তানকে নিজের পরিবারে গ্রহণ করেন তিনি। যদিও তাঁর সন্তানেরা বর্তমানে তাঁর সঙ্গে থাকে না, তবু শ্রীলীলার এই সিদ্ধান্ত মাতৃত্বের সংজ্ঞাকে সামাজিক বাঁধন ও বৈবাহিক গণ্ডির ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। তাঁর গল্প সাহস, সহমর্মিতা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
শ্রীলীলা এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দত্তক নেওয়া সন্তানদের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, কোন পরিস্থিতিতে সন্তানদের দত্তক নিয়েছিলেন এবং ব্যস্ত কাজের মাঝেও কীভাবে তাঁদের যত্ন নিয়েছেন- সবকিছুই তাঁর কাছে ছিল এক গভীর আবেগের অভিজ্ঞতা। সন্তানদের দেখলে আজও তিনি আবেগে ভাষা হারিয়ে ফেলেন, আর এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কখনও কখনও নার্ভাসও হয়ে পড়েন। তবে এখন সবকিছু স্থিতিশীল ও সুন্দরভাবে চলছে। একই সঙ্গে শ্রীলীলা বিনম্রভাবে স্বীকার করেন, তিনি নিজেকে ‘মা’ বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, কারণ তাঁর মতে মা হওয়া একটি সম্পূর্ণ আলাদা ও গভীর অনুভূতির বিষয়।
কন্নড় চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘কিস’ ছবির শুটিংয়ের সময় একটি আশ্রমে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই শ্রীলীলার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। সেখানেই থাকা শিশুদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবেগী বন্ধন থেকেই তিনি সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘদিন এই বিষয়টি গোপন রাখলেও, সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুরোধে তিনি তা প্রকাশ্যে আনেন। উদ্দেশ্য একটাই, মানুষকে দত্তক নেওয়া নিয়ে ভাবতে ও অনুপ্রাণিত করতে। নিজেকে কৃতিত্ব দিতে না চাইলেও, সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
২০১৭ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাঙ্গদা’র মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখা শ্রীলীলা কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, তিনি একজন দক্ষ ভরতনাট্যম শিল্পীও। অভিনয়ের বাইরে তাঁর পরিচয়ের আরেকটি দিক হলো এমবিবিএস ডিগ্রিধারী শ্রীলীলা একসময় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে ভাগ্যের টানে তিনি রুপালি পর্দাকেই বেছে নেন এবং আজ মানবিকতা, প্রতিভা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।