সিরাজগঞ্জে হাড় কাঁপানো শীত, হিমেল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জেলার যমুনার চরাঞ্চলসহ গ্রাম ও শহরের শীতার্ত মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। রোববার ভোর রাত থেকে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে, আর সকাল থেকে দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে সিরাজগঞ্জে প্রচণ্ড শীত, কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। এ কারণে চরাঞ্চল ও যমুনাপাড়ের মানুষ শীতে কাঁপছে। শহর ও বন্দরের দোকানপাটে কেনাকাটাও কমে গেছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ আগুনের কুণ্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে দূরপাল্লার বাসসহ যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
শীতে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের মধ্যে সর্দি, কাশি ও অন্যান্য শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে হিমশিম করছে। কৃষকেরা মাঠে নামতেও দ্বিধা করছেন, যার কারণে আয়-উপার্জনও ব্যাহত হচ্ছে।
হাট-বাজারে শীত নিবারণের পুরাতন কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকট অসহায়দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের গরিব মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট সাড়ে ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী বরাদ্দে আরও বিতরণ করা হবে।