ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন বাতিল হয়। হলফনামায় তথ্যের গরমিল, ঋণখেলাপি, মামলার সঠিক কাগজপত্র না থাকা, ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত ত্রুটি এবং নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকটি নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির অন্তত আটজন বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিনটি আসনে মোট ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এসব প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাকের), খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা রয়েছেন। বগুড়া জেলার তিনটি আসনে সাতজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, যেখানে নাগরিক ঐক্য, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা রয়েছেন।
যশোরের দুটি আসনে ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের মনোনয়ন ঋণখেলাপি থাকার কারণে বাতিল করা হয়। কক্সবাজারের দুটি আসনে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
কুমিল্লায় ছয়টি আসনে সর্বাধিক ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখানে জাতীয় পার্টি, জাসদ, জামায়াত, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, কল্যাণ পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন। গাইবান্ধার দুই আসনে আটজন, মুন্সীগঞ্জে চারজন, বরিশালে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল এবং দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনায় তিনজন, কুড়িগ্রামে একজনের মনোনয়ন বাতিল ও একজনের স্থগিত, পাবনায় বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী, রংপুরে ছয়জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়জন স্বতন্ত্র এবং টাঙ্গাইলে বিএনপির দুই বিদ্রোহীসহ মোট নয়জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল নিষ্পত্তির পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।