৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৮ হাজার ৫০১টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব পদ সংরক্ষণের আদেশ দেন।
গত ২৯ জানুয়ারি ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও ক্যাডার না পাওয়া ৫০০ প্রার্থী প্রথম রিট দায়ের করেন। পরে আরও ২৭৩ জন এতে যুক্ত হন। মোট ৭৭৩ জনের করা রিটে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়।
রিটে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নন-ক্যাডার পদে পছন্দক্রম আহ্বান করার পর ২৬ ডিসেম্বর মাত্র ৬৪২ জনকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি, যা নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০ ও ২০১৪-এর লঙ্ঘন। বিধিমালা অনুযায়ী ধাপে ধাপে মেধাতালিকা প্রকাশ করে সুপারিশ করার বিধান রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য ৮ হাজার ৫০১টি পদে পিএসসিকে সুপারিশের নির্দেশ দেয়। পরে এসব পদের একটি অংশ প্রত্যাহার করে ৪৪তম বিসিএসের প্রার্থীদের জন্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এই অবস্থায় রিটকারীরা ৮ হাজার ৫০১টি পদ সংরক্ষণের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না করেই পছন্দক্রম চাওয়া বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে বহু মেধাবী প্রার্থী হতাশার মধ্যে পড়েছেন এবং অনেকের বয়সসীমাও অতিক্রম করেছে। তাঁর মতে, ৪৩তম বিসিএসের জন্য বরাদ্দকৃত পদ প্রত্যাহার করে ৪৪তম বিসিএসে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
রিটকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার পল্লব ছাড়াও আইনজীবী নাঈম সরদার ও আশরাফুল করিম সাগর শুনানিতে ছিলেন। পিএসসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান।