Ridge Bangla

জিৎ-স্বস্তিকার প্রেম ভেঙে যাওয়ার অকথিত কাহিনি

টলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও আবেগঘন প্রেমকাহিনিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জিৎ-স্বস্তিকার সম্পর্ক। প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁদের যুগলবন্দী টলিউডের রূপালি জগতকে মাতিয়ে রেখেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে, যা আজও অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমের কৌতূহলের বিষয় হয়ে আছে।

সম্পর্কের শুরুর দিকটি ছিল রূপকথার মতো। স্বস্তিকা মুখার্জি এক টগবগে তরুণী হিসেবে টলিউডে পা রাখেন। জীবনে তিনি ইতিমধ্যেই বৈবাহিক জীবন ও এক কন্যাসন্তানের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। অন্যদিকে জিৎ ছিলেন তখন তরুণ নায়ক, জনপ্রিয়তার শিখরে আরোহণ করছিলেন। ‘মাস্তান’ ছবির সেটে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় দীর্ঘস্থায়ী এক প্রেমের সম্পর্কে। সবাইকে হতবাক করে দিয়ে তাঁরা হয়ে ওঠেন টলিউডের স্বর্ণজুটি। পার্টি, প্রিমিয়ার কিংবা ছুটির দিন- সব জায়গাতেই তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত।

তবে এই সম্পর্ক ভাঙনের সুনির্দিষ্ট কারণ কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি কেউই। ফলে বিষয়টি ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচিত হয়। স্বস্তিকার পূর্ববর্তী বিবাহ ও এক সন্তানের মা হওয়ার বিষয়টি টলিউডের গতানুগতিক সমাজে কিছু বাধার সৃষ্টি করেছিল বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া তৃতীয় ব্যক্তির প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। অনেকের ধারণা, জিৎ ও স্বস্তিকার সম্পর্কে তৃতীয় একজন হিসেবে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম উঠে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে কখনোই কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

ক্যারিয়ার ও জীবনদর্শনের পার্থক্যও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। জানা যায়, জিৎ চাইতেন স্বস্তিকা সংসার ও ঘরোয়া ভূমিকায় বেশি মনোযোগ দিন, আর স্বস্তিকা তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দিতেন। এই মতপার্থক্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়।

সম্পর্ক ভাঙার পর এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা এই বিচ্ছেদের ব্যক্তিগত প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুধু তাঁর নিজের জীবনেই নয়, তাঁর মেয়ে অন্বেষা ও পরিবারের সদস্যদের জীবনেও এই বিচ্ছেদ গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর মেয়ে, যে জিৎকে খুব পছন্দ করত, সেই সিদ্ধান্ত আজও সহজে মেনে নিতে পারেনি। এমনকি স্বস্তিকার মা ও বোনও জিৎকে বিশেষ স্নেহ ও সমর্থন করতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সময়ের সঙ্গে অনেক ক্ষত শুকিয়ে যায়, তবে কিছু স্মৃতি থেকে যায়। জিৎ ও স্বস্তিকা দুজনেই এখন নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ত এবং নতুন করে তাঁদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন গড়ে তুলেছেন। তবুও টলিউডের ইতিহাসে তাঁদের এই প্রেমকাহিনি একটি মর্মস্পর্শী অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে, যা ভাঙনের সব কারণের ঊর্ধ্বে উঠে দর্শকের মনে ভালোবাসার এক আবেগঘন গল্প হিসেবেই স্মরণীয়।

This post was viewed: 27

আরো পড়ুন