চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্স, বিশেষ করে সেমিফাইনালের আগেই বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জরিমানা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি।
চলমান বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার এইট রাউন্ডের ম্যাচে পাকিস্তান ৫ রানে জয়লাভ করার পরও রান রেটের কারণে সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। সেমিফাইনালের আগেই বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া পাকিস্তান দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি দিতে হবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জেরে পাকিস্তানের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড- এমনটাই জানা গিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম থেকে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এমন শাস্তির পরও সাবেক কয়েকজন ক্রিকেটার সন্তুষ্ট হতে পারেননি। শাস্তি আরও বেশি না হওয়ায় পিসিবির সমালোচনা করেছেন তারা। বিশেষ করে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি শাস্তির ব্যাপারে সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি একটি সংকীর্ণমনা চিন্তাভাবনা। ৫০ লাখ রুপি খুবই সামান্য পরিমাণ অর্থ। এই টাকা দিয়ে কী হবে? এটি তো শাস্তির মতো শোনায় না।’
এরপর শহীদ আফ্রিদি এই ইস্যুর একটি সমাধানও বলেন। তিনি জানান, টাকা জরিমানা না করে বরং যারা পারফর্ম করতে পারেননি তাদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরত পাঠানো উচিত এবং এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের অন্তত দুই বছর জাতীয় দলের ধারেকাছেও রাখা উচিত নয়।
চলমান বিশ্বকাপে পাকিস্তান মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়লাভ করে, পরের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায়। সুপার এইটের নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সুপার এইটের পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের সুর বেজে ওঠে। ঠিক বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৫ রানের জয়লাভ করে। কিন্তু এই জয়ও পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। তারা নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
জরিমানার ইস্যুতে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি যেমন বলেছেন জরিমানাটা খুব কম হয়েছে, ঠিক তেমনই এই ইস্যুতে পাকিস্তানের সাবেক আরেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির বলেছেন, ক্রিকেটারদের চেয়ে নির্বাচকদের বেশি জরিমানা করা উচিত।
এ নিয়ে মোহাম্মদ আমির আরও বলেন, ‘জরিমানাই যদি সবকিছুর সমাধান হয় তাহলে সেটা নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসন- সবার ওপর প্রয়োগ করুন। খেলোয়াড়দের তো আর বন্দুক ধরে মাঠে নামানো হয়নি। ভুল কম্বিনেশনের জন্য নির্বাচকদেরও জবাবদিহি করতে হবে। তাদের জরিমানা দ্বিগুণ করুন। খেলোয়াড়দের বলির পাঁঠা বানানো বন্ধ করুন। এটাই আসল সমাধান নয়। সব সময় খেলোয়াড়দেরই কেন ভুগতে হবে?’
ব্যর্থতার জন্য ক্রিকেটারদের চাইতে নির্বাচকদের দায়ই বেশি দেখছেন আমির। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আমির সমাধান হিসেবে জরিমানার পথে না হেঁটে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।