সাদিয়া ইসলাম মৌ নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের মডেলিং জগতে অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নাম। ১৯৮৯ সালে একটি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং সে সময় রেকর্ড ১ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পান। এরপর থেকে তিনি দেশের সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়া নারী মডেল হিসেবে পরিচিতি পান এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকেও দীর্ঘদিন শীর্ষে রয়েছেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি একজন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী।
১৯৭৬ সালের ২১ জুন জন্মগ্রহণ করা মৌ প্রায় ৫০ বছর বয়সেও নিজেকে ফিট ও প্রাণবন্ত রেখেছেন। তিনি জানান, সন্তান জন্মের পর অনেক ওজন বেড়ে গেলেও নিউট্রিশনিস্ট ডা. শম্পার তত্ত্বাবধানে নয় মাস ডায়েট অনুসরণ করে তিনি আবার সুস্থতা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
মৌ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তার ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত গুজব, যেমন ওষুধ খাওয়া বা অস্ত্রোপচার, সম্পূর্ণই ভুল। তিনি জানান, একজন নিউট্রিশনিস্টের তত্ত্বাবধানে টানা নয় মাস নিয়মিত ডায়েট করেছেন এবং প্রতিদিন ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হাঁটাকে অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। তার মতে, হাঁটা শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারী; এক ঘণ্টা হাঁটার পর মন অনেক ভালো হয়ে যায়।
বর্তমানে মৌ আগের মতো মডেলিং না করলেও নৃত্যচর্চায় সক্রিয় আছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি তিনি নাট্যাঙ্গনেও কাজ করছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘শ্যামা’, ‘মায়ার খেলা’, ‘চণ্ডালিকা’ ও ‘নকশীকাঁথার মাঠ’। এছাড়া টিভি নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন, যেমন ‘অল দ্য বেস্ট’, ‘বদনাম’, ‘মনে পড়ে রুবি রায়’ ও ‘নীল আকাশ প্রেম বিষ’।
পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানের স্ত্রী; তাদের দুই সন্তান পুষ্পিতা ও পূর্ণ।