ইসরায়েলি বাহিনী আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজায় ফিরিয়ে দিয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) মাধ্যমে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই নিয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে মোট ২২৫টি মরদেহ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মরদেহ শনাক্ত ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া অনেক মরদেহে হাতকড়া, চোখ বাঁধা ও পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। কারও কারও দেহে অঙ্গ ও দাঁত অনুপস্থিত পাওয়া গেছে।
মরদেহ ফেরত দেওয়ার এই পদক্ষেপটি গত অক্টোবরের বন্দি-বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির আওতায় হামাস ২০ জীবিত বন্দী মুক্তি দেয় এবং ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীকে ছেড়ে দেয়।
তবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার গাজার শুজাইয়াহ, জাবালিয়া ও খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। গাজার সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আজ-জাহরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করেছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৬ শিশু ও ২০ নারী রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, গাজায় ইসরায়েলি অভিযান থামার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।