Ridge Bangla

হাছান মাহমুদ-নওফেলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

২০২৪ সালে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার ১৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনটি পৃথক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং বহু মানুষকে আহত করার দায় আনা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ, নির্দেশ প্রদান, উসকানি ও সহায়তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনটি অভিযোগের প্রথমটিতে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয়টিতে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক আন্দোলনকারীকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয় তৃতীয় অভিযোগে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট তার মা হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এ মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন