মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে খবর প্রকাশিত হয় যে, সৌদি আরবে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবলারের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে সোমবার রাতে তার প্রেমিকা ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে সৌদি আরব ছেড়ে নিরাপদে চলে গেছেন।
কিন্তু একদিন পরই জানা গেল, তিনি কোথাও যাননি, এখনও সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন। সৌদি ক্লাব আল-নাসরের অধিনায়ক রোনালদোর ব্যাপারে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সৌদি ক্লাব আল-নাসরের অনুশীলনে রোনালদোকে মাঠে দেখা গেছে। ‘প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, রোনালদো এখনো সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আল-নাসর একটি মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, সর্বশেষ ম্যাচে খেলার সময় তিনি পেশিতে চোট পেয়েছেন এবং পুনরায় দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরার আগে চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকার সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, রোনালদোর ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি সৌদি আরব থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে সঠিক নয় বলে এখন প্রকাশিত হচ্ছে।
রোনালদোর অবস্থানের বিষয়ে রহস্যভেদ করে সঠিক তথ্যের ব্যাপারে বিশ্বখ্যাত এবং বিশ্বাসযোগ্য ইতালিয়ান ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো সৌদি আরব ছেড়ে মাদ্রিদে ফেরেননি।’
সৌদি প্রো লিগের সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার রিয়াদে রোনালদোর ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে নিওম (Neom) এফসির ম্যাচটি আপাতত পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে এই ম্যাচটিও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান আক্রান্ত হওয়ায় পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আক্রান্ত হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদও। খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানের ড্রোন হামলায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আক্রান্ত হয়েছে।