Ridge Bangla

সিলেটে পাথরখেকো সিন্ডিকেটের তাণ্ডব আবারও চরমে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সারপিন টিলায় পাথরখেকো সিন্ডিকেটের তাণ্ডব আবারও চরমে পৌঁছেছে। অন্যান্য পাথর কোয়ারিগুলোতে পাথর লুট নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সারপিন টিলায় চলছে পাথর চুরির এক অসম প্রতিযোগিতা। স্থানীয় প্রশাসন প্রায় প্রতিদিন সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালালেও কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না প্রভাবশালী এই চক্রকে।

সারপিন টিলায় প্রায় শতাধিক নিষিদ্ধ ‘বোমা’ মেশিন ব্যবহার করে মাটির ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের আলোতে শত শত শ্রমিক লাগিয়ে চলে পাথর উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ, আর রাতের আঁধারে সেই পাথর ট্রাক্টর ও বিভিন্ন যানবাহনে পৌঁছে যায় ভোলাগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্রাশার মিলে। চক্রটি পাথর উত্তোলন করে উচ্চ এই টিলাটিকে এক গভীর পুকুরে পরিণত করেছে, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিধ্বংসী সিন্ডিকেটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এদের মধ্যে যেমন বর্তমানে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। কোম্পানীগঞ্জের জালিয়ারপাড়, চিকাডহর, ভোলাগঞ্জ ও পাড়ুয়া এলাকার প্রায় অর্ধশত প্রভাবশালী ব্যক্তি এই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। মূলত শ্রমজীবীদের পাথর উত্তোলনে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় সিন্ডিকেটের মূল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উল্লেখ্য, গত বছর সিলেটে পাথর লুটের মহাযজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর আগস্টে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সিলেটে যোগ দেওয়ার পর পাথর লুট বন্ধে ব্যাপক কঠোরতা দেখান। ওই সময় সাদা পাথরসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে লুট বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে সারপিন টিলায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি। জেলা প্রশাসক গত নভেম্বরে নিজে এই টিলা পরিদর্শন করে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এরপর আবারও কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রশাসন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে বোমা মেশিন ধ্বংস, জরিমানা ও আটকের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৫ দিনেও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু যন্ত্র ধ্বংস বা শ্রমিক আটকের পরের দিন আবারও শুরু হয় পাথর লুট।

শক্তিশালী মোটরের সাহায্যে এভাবে গভীর গর্ত করে পাথর তোলায় যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধস বা ভূমিধসের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের দাবি, কেবল অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নেপথ্যের মূল কুশীলবদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো সম্ভব নয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী পাথর লুটের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু এলাকার অধিকাংশ মানুষ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। লুট সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকায় ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও তারা কেউই এলাকায় নেই। তাই তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।

This post was viewed: 24

আরো পড়ুন