সাভারের আশুলিয়ায় মধ্যরাতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু ফেললে তা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে লেগে যায়। এ ঘটনার জেরে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা চালান এবং ভাঙচুর শুরু হয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্যাফোডিলের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। রাত ১২টার পর তারা সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। লুট করা হয় কম্পিউটারসহ মালামাল, আগুনে পুড়ে যায় তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেটকার; আরও পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ভোর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ চার ঘণ্টা সংঘর্ষ চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করেনি।
সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, “উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, এবং তা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।”
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে এগোলে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টোরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য রাত সাড়ে ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।