Ridge Bangla

শঙ্কা ছাপিয়ে উৎসবের আমেজে নির্বাচন সরগরম দেশের ভোটের মাঠ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। শুরুতে নানা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে দেশের নির্বাচনী চিত্র। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই এখন নির্বাচনী প্রচারের রং লেগেছে। গণসংযোগ, জনসভা, উঠান বৈঠক আর মাইকিংয়ে সরগরম ভোটের মাঠ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যস্ততায় যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই।

দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণার কথা রয়েছে। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণায় মুখর জনপদ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দেওয়া হচ্ছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি। যদিও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চলছে, তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী আবহ উৎসবের দিকেই ঝুঁকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের অস্থিরতা নেই।

এবারের নির্বাচনে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল মাধ্যম। পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলছে গ্রাফিক্স, লাইভ ভিডিও ও শর্ট ভিডিও প্রচার। জনপ্রিয় গানের সুরে তৈরি প্যারোডি গানও ভোটারদের আকৃষ্ট করছে, বিশেষ করে তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে। কম খরচে দ্রুত পৌঁছাতে পারায় ডিজিটাল প্রচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারের গতি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথসভা, উঠান বৈঠক ও ডোর-টু-ডোর গণসংযোগ চলছে। চায়ের দোকান, বাজার, বাসস্ট্যান্ড- সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ‘ভোট’। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের মাঝেও উৎসাহ চোখে পড়ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে কড়া প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসি। ভোটের দিন এক লাখ সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস, ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা ও শঙ্কা থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় এখন নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজই বেশি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সব বাধা পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।

This post was viewed: 13

আরো পড়ুন