ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সঠিক ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই দেশটি চালাবে। ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এক রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাসের তাদের বাসভবন থেকে অপহরণ করে। অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলাও চালানো হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। নিউ ইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক-সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নিরাপদ ও যথাযথ ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তবে এই পরিচালনা কীভাবে হবে বা কারা এতে যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি বলেন, এটি হবে একটি দলগত প্রচেষ্টা। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট তাকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম ঘোষণা করেছে। ট্রাম্পের দাবি, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে, তা করতে রাজি হয়েছেন।
তবে পরে রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে মাদুরোর মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, মাদুরোই ভেনেজুয়েলার ‘একমাত্র প্রেসিডেন্ট’।
ট্রাম্প জানান, তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে কথা বলেননি। তার মতে, মাচাদোর ভেনেজুয়েলার ভেতরে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। এর আগে মাচাদো এডমুন্দো গনজালেসকে ক্ষমতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে গনজালেসের পক্ষে তিনি ব্যাপক সমর্থন জোগাড় করেছিলেন এবং তার দলের প্রকাশিত ভোটের ফল অনুযায়ী গনজালেস বড় ব্যবধানে জয়ী হন।