বিশ্ব ক্রিকেটে বাবা–ছেলে একসঙ্গে খেলার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বাবা-ছেলে একসঙ্গে খেলার ইতিহাস রয়েছে। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিমুর লেস্তের হয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন ৫০ বছর বয়সী সুহাইল সাত্তার ও তাঁর ছেলে ১৭ বছর বয়সী ইয়াহিয়া সাত্তার। ভারতের ঘরোয়া লিগেও এমন ঘটনা আছে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এমন ঘটনা এর আগে কেউ দেখেনি। এমনি এক বিরল ইতিহাসের জন্ম দিল এবারের বিপিএল।
বিপিএলের কল্যাণে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রথমবার বাবা-ছেলেকে একাদশে দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বাবা ও ছেলে একই দলে খেললেন। আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবি জাতীয় দল ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন ঘরোয়া লিগে খেলে থাকেন।
মোহাম্মদ নবির স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলে হাসান ইসাখিলের সঙ্গে একসঙ্গে ম্যাচ খেলা। আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে মোহাম্মদ নবি ও তাঁর ছেলে হাসান ইসাখিল প্রতিপক্ষ হিসেবে ইতোপূর্বে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু একই দলে একসঙ্গে এর আগে তাঁদের খেলা হয়নি। মোহাম্মদ নবি সুযোগ খুঁজছিলেন কোন লিগে খেলা যায়। এবারের বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস সেই পথ করে দেয়। নোয়াখালীর জার্সিতে গতকালই প্রথমবার একসঙ্গে মাঠে নামেন তাঁরা।
গতকাল বাবা-ছেলে ম্যাচ খেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে হাসানের যেমন অভিষেক হলো, তেমনি বাবা-ছেলেরও। দলের হয়ে এই ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হয় মোহাম্মদ নবির ছেলে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইসাখিলের। এমন রোমাঞ্চকর এক অভিষেককে রঙিন করেছেন হাসান ইসাখিল। বাবার সঙ্গে জুটি বেঁধে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। ৬০ বলে ৯২ রান করে আউট হন হাসান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা।
ওপেনিংয়ে নেমে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন ইসাখিল। সৌম্য আউট হন ২৫ বলে ৪৮ রান করে। এরপর চতুর্থ উইকেটে বাবার সঙ্গে ৩০ বলে ৫৩ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তরুণ এই ওপেনার। নোয়াখালী এক্সপ্রেস নির্ধারিত ওভারে তোলে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান। ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস গুটিয়ে যায় ১৪৩ রানে।
অভিষেক ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলেন হাসান ইসাখিল। তবে ইসাখিল অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি মিস করলেন। অপরদিকে হাসান ইসাখিলের দুর্দান্ত এই ইনিংসের ওপর ভর করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবারের বিপিএলে কয়েকটি ম্যাচ হারার পর টানা দ্বিতীয় জয় উপহার পেল।
এদিন ম্যাচ শুরুর আগে ছেলে ইসাখিলের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেন বাবা নবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে ছেলের প্রথম অর্ধশতকের সময় ড্রেসিংরুম থেকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দনও জানান নবি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাসান বলেন, ‘আমার আদর্শ বাবা। এক কথায়, ক্রিকেট থেকে জীবন দর্শন- সবকিছুতেই বাবাকে অনুসরণ করি।’ এসব বলতে বলতেই সংবাদ সম্মেলনে বাবা-ছেলে আবেগাপ্লুত হচ্ছিলেন।