ব্রাজিলের বিশ্ববিখ্যাত ফরোয়ার্ড নেইমার। চোট যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী, আর এই চোটই ক্যারিয়ারে তার সবচেয়ে বড় এবং অদৃশ্য এক শত্রু। এই শত্রুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে করতে অনেকটাই ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছেন ব্রাজিলের এই বিশ্ববিখ্যাত ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। চলতি বছরের শেষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
৩৪ বছর বয়সী এই তারকা সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে নিয়মিত মাঠে নামতে পারছেন না। সেটা জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত ঘটনা। এমন চোটের ঘটনা অহরহ ঘটায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তিনি প্রকাশ করেছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি।
২০১৭ সালে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি হিসেবে রেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি)-তে যোগ দেন নেইমার। যার পরিমাণ ছিল ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড। এটি এখনো পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি হিসেবে রেকর্ড ধরে রেখেছে।
তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলাটাই এখন সান্তোসের এই ‘রাজপুত্র’-এর প্রধান লক্ষ্য। প্রায় এক বছর অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে নেইমারকে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের ‘কাজেটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসর বিষয়ে জানতে চাইলে নেইমার বলেন, “এখন থেকে কী হবে আমি জানি না, আগামী বছর কী হবে তাও জানি না। হতে পারে ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইব। আমি দিন ধরে ধরে এগোচ্ছি। এই বছরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোসের জন্য নয়, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং আমার নিজের জন্যও। কারণ বিশ্বকাপ সামনে। তাই আমার জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল। ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, যদি শতভাগ ফিট থাকতে পারেন। আনচেলত্তি আরও জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে নেইমারের কেবল সুস্থ থাকলেই হবে না, ম্যাচে নামার আগে শতভাগ ফিটনেস থাকতে হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল লড়বে ‘সি’ গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।