নাটোর জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ রনি জানান, সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্যে এখন ব্যবসা পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ডিলারদের প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডার কেনার মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে।
তিনি জানান, কোম্পানি থেকে প্রতি সিলিন্ডার ক্রয়মূল্য ১ হাজার ৩০৫ টাকা। গোডাউনে পৌঁছাতে খরচসহ তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৭ টাকা। শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যুক্ত হয়ে খুচরা দোকানে পৌঁছানোর পর প্রতিটি সিলিন্ডারের খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩০ টাকা।
অথচ সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা, যা ডিলারদের কেনা মূল্যের চেয়েও ২৪ টাকা কম।
ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, সরকারি মূল্যে বিক্রি করলে প্রতিটি সিলিন্ডারে লোকসানের শিকার হতে হয়। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দাম নিলে জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়। এমতাবস্থায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মত দেন।
এই পরিস্থিতিতে সমিতি খুচরা দোকানে নতুন সিলিন্ডার সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দোকানগুলোতে বর্তমানে যেসব সিলিন্ডার মজুদ আছে, সেগুলো বিক্রি করতে দোকানিদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দ্রুত গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে সংকট নিরসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান লাল, তারেক মোহাম্মদ ফয়সালসহ জেলার বিভিন্ন কোম্পানির পাইকারি গ্যাস ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।