জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়; এটি আমার, আপনার এবং আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি দেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষই গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছেন। জয়-পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা যেমন জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের ভারসাম্য প্রতিফলিত হয়।
তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করা এবং ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংস্কার আনা। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনা করা হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিদায়ী এই ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।