চুল পড়া এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। আধুনিক চিকিৎসায় হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বেশ জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি হলেও অস্ত্রোপচারের পর কিছু সাময়িক শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন রোগীরা। আগে থেকে বিষয়গুলো জানা থাকলে উদ্বেগ কমে এবং প্রস্তুত থাকা সহজ হয়।
অস্থায়ী চুল পড়া:
চুল প্রতিস্থাপনের ২ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রতিস্থাপিত চুল পড়ে যেতে পারে, যাকে ‘শক লস’ বলা হয়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
ফোলাভাব ও ব্যথা:
অপারেশনের পর কপাল, চোখের চারপাশ বা মাথার ত্বকে সাময়িক ফোলাভাব ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব উপসর্গ কমে যায়।
চুলকানি ও খোসা হওয়া:
চুল প্রতিস্থাপনের পর মাথার ত্বকে ছোট ছোট খোসা তৈরি হওয়া ও চুলকানি হওয়া স্বাভাবিক। তবে খোসা খোঁচানো বা জোর করে তুলে ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংক্রমণ ও রক্তপাতের ঝুঁকি:
যদিও তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও অপারেশনের পর সংক্রমণ বা অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করলে এ ঝুঁকি বাড়ে।
দাগ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ চুল গজানো:
স্ট্রিপ পদ্ধতিতে চুল প্রতিস্থাপন করলে মাথার পেছনে তুলনামূলক বড় দাগ থাকতে পারে। ফলিকুলার ইউনিট পদ্ধতিতে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ঘনত্বে চুল না গজানো বা সমানভাবে না বাড়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
চুল প্রতিস্থাপন সাধারণত নিরাপদ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ফোলাভাব, জ্বর, তীব্র ব্যথা, পুঁজ বা দুর্গন্ধ, কিংবা হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত ফলোআপ করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।