আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদে এ কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের ডিভাইসে আসক্তি কমানো, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া পরিকল্পনা হিসেবে নেওয়া ৯ কর্মসূচিতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগটি ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অংশ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে সাতটি ইভেন্ট বা খেলা দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে আরও নতুন নতুন ডিসিপ্লিন বা খেলার বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোনো ক্রীড়া শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে হাতে-কলমে জানাশোনার সুযোগ-সুবিধা কম পাওয়ায় এ ক্ষেত্রে তেমন কিছুই শিখতে পারে না। একই সঙ্গে ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষাকে স্কুলগুলোতেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। প্রতি বছরের শুরুর দিকে একবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেই যেন পুরো বছরের ক্রীড়ার পাঠ চুকিয়ে নেওয়া হয়। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীই ক্রীড়ার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারেন না। তবে এসব বিষয় থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর।
শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চায়।
উপরোক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সাতটি খেলাধুলা দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন খেলা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
আমিনুল হকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ পাঁচটি ক্রীড়া বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে।
এ ছাড়া, আগামী এক বছরের মধ্যে ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিটি পাঁচটি ডিসিপ্লিনের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক এবং একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সরকারি বেতনভুক্ত করা হবে।