উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ঘরের মাঠে বড় ধাক্কা খেয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজয় কাতালানদের দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ন্যু ক্যাম্পে জয় পেয়েছে অ্যাটলেটিকো। ২০০৬ সালের পর এই ভেন্যুতে আর জিততে পারেনি মাদ্রিদের দলটি। বহুবার ব্যর্থ হওয়ার পর এবার জুলিয়ান আলভারেজ ও আলেক্সান্ডার সরলথের গোলে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় তারা। ফলে দুই লেগের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকল দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ৪৪ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বার্সেলোনার ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করলে রেফারি এগিয়ে এসে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর পর্যালোচনা করে হলুদের বদলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
বল দখলে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি একাধিক আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখলেও অ্যাটলেটিকোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক মুসোর দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয় তারা। বিপরীতে অ্যাটলেটিকো ৫ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুটিতেই গোল আদায় করে নিতে সক্ষম হয়।
প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ড একবার বল জালে জড়ালেও লামিন ইয়ামাল অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাউ কুবারসির লাল কার্ডের সময় পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ। এটি চলতি আসরে তার নবম গোল। এই গোলে অ্যাটলেটিকোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টায় একের পর এক আক্রমণ চালায় বার্সেলোনা। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার মাশুল দিতে হয়। ৭০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে আলেক্সান্ডার সরলথ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বদলি হিসেবে নেমে সতীর্থের ক্রস থেকে ভলিতে গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও গোল পায়নি বার্সেলোনা। ফলে ২-০ ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এখন সেমিফাইনালে উঠতে হলে ফিরতি লেগে অন্তত দুই গোলের ব্যবধান ঘোচাতে হবে কাতালানদের। তবে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে অ্যাটলেটিকোর মাঠে, যেখানে সর্বশেষ দেখায় জয়ের স্মৃতি আছে তাদের। যা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।