Ridge Bangla

গুলিবিদ্ধ হলে প্রথম ৩০ মিনিটের জরুরি করণীয়

গুলিবিদ্ধ হওয়া একটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অবস্থা। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। প্রথম ৩০ মিনিটে কয়েকটি জরুরি বিষয় অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুলির ঘটনা ঘটলে প্রথমে নিজে এবং আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে হবে। যদি আহত ব্যক্তি হাঁটতে বা সরতে সক্ষম হন, তাকে সহায়তা করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব জরুরি সাহায্যের জন্য ৯৯৯ নম্বরে কল করতে হবে অথবা স্থানীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

রক্তপাত বন্ধ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রক্তপাতের স্থানে একটি পরিষ্কার কাপড়, গজ বা তোয়ালে রেখে শক্ত করে চাপ দিতে হবে। রক্ত কাপড় ভিজে গেলে সেটি না খুলে তার ওপর আরেকটি কাপড় রেখে চাপ বজায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র হাত বা পায়ের গুরুতর রক্তপাতের ক্ষেত্রে এবং টুর্নিকেট ব্যবহারে প্রশিক্ষিত হলে তা প্রয়োগ করা যেতে পারে, কারণ ভুলভাবে ব্যবহারে ক্ষতি বাড়তে পারে। রক্তপাতের স্থান যদি হাত বা পা হয় এবং হাড় ভাঙার সন্দেহ না থাকে, তাহলে সেটি হৃৎপিণ্ডের সমতলের ওপরে তুলে ধরলে রক্তপাত কমাতে সহায়তা করে।

আহত ব্যক্তিকে সমতল ভূমিতে শুইয়ে দিতে হবে। শ্বাসকষ্ট থাকলে মাথা ও কাঁধ সামান্য উঁচু করে দিতে হবে। পেট, বুক বা মাথায় আঘাতের ক্ষেত্রে পা উঁচু করলে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। রোগী অচেতন হলেও যদি শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে, তাকে রিকভারি পজিশনে রাখতে হবে। শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে একটি কম্বল বা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলতে হবে। মুখ দিয়ে কোনো খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না, কারণ এতে শ্বাসনালিতে প্রবেশ বা অস্ত্রোপচারের জটিলতা হতে পারে। ক্ষতস্থান থেকে কোনো কিছু যেমন জামাকাপড় বা বুলেট বের করার চেষ্টা করা যাবে না। জরুরি চিকিৎসক আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বুকে গুলি লাগলে ক্ষত দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া বা বুদবুদ ওঠা আছে কি না লক্ষ্য করতে হবে। এমন হলে ক্ষতস্থান বাতাস প্রবেশ করতে পারে না এমন বস্তু দিয়ে ঢেকে তিন দিক সিলোটেপ দিয়ে আটকে দিতে হবে এবং এক দিক খোলা রাখতে হবে। রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে সিলটি সরিয়ে দিতে হবে।

পেটে গুলি লাগলে ক্ষতস্থানে চাপ দিতে হবে এবং পেট ফুলে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য রাখতে হবে, কারণ এটি অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় রোগীকে না নাড়াচাড়া করাই ভালো।

মাথা বা ঘাড়ে গুলি লাগলে রোগীর মাথা ও ঘাড় যতটা সম্ভব স্থির রাখতে হবে। ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাতের সম্ভাবনার কারণে রোগীকে নড়াচড়া করানো যাবে না। রক্তপাত থাকলে চাপ দিতে হবে, তবে অতিরিক্ত চাপ বা নড়াচড়া করা যাবে না।

হাত বা পায়ে গুলি লাগলে রক্তপাত বন্ধে চাপ দিতে হবে এবং সম্ভব হলে আহত অঙ্গটি উঁচু করে রাখতে হবে। ভাঙা হাড়ের লক্ষণ থাকলে সেই অঙ্গটি যতটা সম্ভব স্থির রাখতে হবে।

জরুরি সেবাকে তথ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কতজন আহত, আঘাতের ধরন এবং রোগীর অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হবে। আহত ব্যক্তির নাম, রক্তের গ্রুপ, এলার্জি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা তথ্য জানা থাকলে তা জানাতে হবে। ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যার মতো চিকিৎসা ইতিহাস থাকলেও জানাতে হবে।

রোগীর মানসিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। শান্ত থাকতে হবে এবং আহত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সাহায্য আসছে। সচেতন রোগীর সঙ্গে শান্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলতে হবে এবং তাকে নড়াচড়া না করতে বলতে হবে।

রোগীকে হাসপাতালে হস্তান্তরের সময় রক্তপাতের সময়কাল, রোগীর অবস্থার পরিবর্তন এবং দেওয়া প্রাথমিক চিকিৎসার সব তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে।

মনে রাখতে হবে, এসব পদক্ষেপ প্রাথমিক ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা মাত্র। এরপর দ্রুত পেশাদার চিকিৎসা সেবা অপরিহার্য। গুলিবিদ্ধ আঘাতের জটিলতা শরীরের ভেতরে ব্যাপক হতে পারে, যা বাইরে থেকে বোঝা নাও যেতে পারে। রোগীর সুস্থতা আঘাতের তীব্রতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনের ওপর নির্ভর করে। জরুরি সাহায্যের জন্য প্রথমেই ফোন করতে হবে এবং সাহায্য আসা পর্যন্ত এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

This post was viewed: 39

আরো পড়ুন