বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের সম্পদ ও পরিবেশগত সংকট চিহ্নিত করতে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গবেষণা জাহাজ R.V. Dr. Fridtjof Nansen–এর মাধ্যমে পরিচালিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপের প্রতিবেদন মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে গবেষণা দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য এবং দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত ও আগ্রাসী মাছ ধরার ফলে গভীর ও স্বল্প গভীর উভয় স্তরেই বড় মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গভীর সমুদ্রে বর্তমানে ২৭০–২৮০টি বড় ট্রলার মাছ ধরছে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি সোনার লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং করছে। এতে সামুদ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মৎস্য উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, সোনার ফিশিং অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণায় টুনা মাছ আহরণে সম্ভাবনার পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিশ নার্সারির অস্তিত্বও উঠে এসেছে, যা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের জলভাগের সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শক্ত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করলেই সামুদ্রিক অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।