আদালতে বিচারাধীন মামলার আসামির পক্ষে সুপারিশ করতে গিয়ে খোদ বিচারককেই ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম শাহরিয়ার জালাল। তিনি পাথরঘাটা থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত।
আদালত সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর ২টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ তার খাস কামরায় দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় এসআই শাহরিয়ার জালাল অনুমতি নিয়ে বিচারকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি আদালতের সিআর ৭৮০/২৩ নম্বর মামলার আসামি মো. রাজু মিয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। এসআই জালাল বিচারককে জানান যে, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
তিনি আসামিকে জামিন দিয়ে একটি ‘রিকল’ বা পরোয়ানা প্রত্যাহারের ব্যবস্থার জন্য বিচারককে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিচারককে অবৈধভাবে প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অনৈতিক ও বেআইনি প্রস্তাবে বিচারক অত্যন্ত বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আদালতের সিএসআই, জিআরও এবং অন্যান্য কর্মচারীদের উপস্থিতিতে ওই এসআইকে আটক করার নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার হস্তক্ষেপে বিষয়টি বিভাগীয় মামলার শর্তে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত এসআইকে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলার জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।