সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কিছু মানবিক মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মরণ করেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের সদস্য হামিন আহমেদ। ১৯৯৩–৯৪ সালের কথা, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের সরকারি বাসভবনে সংগীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিল ব্যান্ড মাইলস।
হামিন আহমেদ সেদিনের কথা লিখে জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো সরাসরি খালেদা জিয়াকে দেখেই মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মার্জিত রুচি ও আচরণ সবার মন কেড়েছিল। একটি ঘটনা বিশেষভাবে সবার মনে আলোড়ন তোলে। দুপুরে সাউন্ডচেকের সময় খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে জিয়া পরিবারের কেউ কেউ শিল্পীদের বাইরে খাওয়ানোর প্রস্তাব দিলে খালেদা জিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠেছিলেন, “ওরা এই বাড়িতেই খাবে। আমরা যা খাই, তা-ই খাবে।”
এই কথা বলার পরই তিনি মাইলসের শিল্পীদের সঙ্গে নিজের পরিবারের সদস্যদের মতো এক টেবিলে বসিয়ে খাওয়ান। আরও অবাক করার বিষয় হলো, তিনি নিজ হাতে শিল্পীদের প্লেটে খাবার তুলে দেন। হামিনের ভাষায়, সেই সম্মান ও উষ্ণ অভ্যর্থনা আজও তাঁদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া মনোযোগ দিয়ে মাইলসের গান শোনেন এবং শেষে তাঁদের প্রতি প্রশংসা ও উৎসাহও জানান। শিল্পীদের প্রতি তাঁর এই আন্তরিক সম্মান ও মমত্ববোধ দিনটিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
হামিন আহমেদ আরও উল্লেখ করেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক সৌহার্দ্যের কথা। তাঁর মা, প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ায় খালেদা জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার ইন্দিরা রোডের কালিন্দী অ্যাপার্টমেন্টে ফিরোজা বেগমের বাড়িতে গিয়ে শোকপ্রকাশ ও সান্ত্বনা দেন। হামিন বলেন, সেদিন তিনি তাঁদের যেন নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে আগলে ধরেছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে বেগম খালেদা জিয়ার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, সংবেদনশীলতা ও মার্জিত আচরণ তাঁকে অগণিত মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে। মানুষের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসাই ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক- এমনটাই মনে করেন হামিন আহমেদ এবং তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া বহু মানুষ।