Ridge Bangla

খালেদা জিয়ার স্মরণে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত স্থানে শুরু হওয়া এই শোকসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। শোকসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

তারেক রহমান সভাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকসভা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নাগরিক শোকসভা শেষ হয় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটের দিকে। অনুষ্ঠানে শোকগাথা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। শোকগাথায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিত্ব, সংগ্রাম এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ভূমিকার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি শোকসভাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪০ দিন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। পরে তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং দাফনের দিন সাধারণ ছুটি পালন করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।

This post was viewed: 15

আরো পড়ুন