২০২৬ সালের আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা আছে এশিয়ার দেশ ইরানের। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। যার রেশ পড়েছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপেও। কারণ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকা মহাদেশের তিন দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন থেকে বাছাই পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছে ইরান। এর আগেও ইরানের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে ইরানের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে খেলার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এ নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
যেহেতু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এবারের বিশ্বকাপের প্রধান স্বাগতিকও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাই বিশ্বকাপের সিংহভাগ আয়োজন করা হবে সেই দেশেই। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই দেশে গিয়ে বিশ্বকাপে না খেলার কথা ভাবছে ইরান। যুদ্ধের কারণে ইরানে হতাহতের সংখ্যা অনেক। এমন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে শিগগিরই বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও দিতে পারে ইরান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে তেহরান টাইমস। অপরদিকে ইরানি ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তারা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে পারে।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেছেন, ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি নজরে রাখা হবে। শনিবার ওয়েলসের কার্ডিফে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের বার্ষিক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফিফার মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন। সব দল অংশ নেবে। আমরা সব সময়ের মতো তিনটি আয়োজক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। সবাই নিরাপদ থাকবে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আসা সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।
বিশ্বকাপে ইরানের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি হওয়ার কথা। যদি ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিকল্প হিসেবে এশিয়া মহাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাক খেলতে পারে।