কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক দশকের পুরনো গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে হওয়া ভয়াবহ সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলীয়ারা গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহতদের গুলি করার পর হাত ও পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে নিহতরা হলেন আলীয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সালেহ আহম্মেদ এবং তাঁর প্রবাসী ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন নয়ন। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত ১০-১৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলীয়ারা গ্রামে সালেহ আহম্মেদ মেম্বার গোষ্ঠী ও খায়ের মেম্বার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এমনই এক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৩ আগস্ট প্রতিপক্ষের হামলায় সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন নিহত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলাউদ্দিন মেম্বার পক্ষের প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সালেহ আহম্মেদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা নয়নের বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এরপর সালেহ আহম্মেদকেও নৃশংসভাবে কুপিয়ে এবং রগ কেটে হত্যা করা হয়।
সংঘর্ষের পর পুরো গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ নানা স্থানে ছুটতে শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। পরবর্তীতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীও সেখানে অবস্থান নেয়।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।