কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এক দুর্ধর্ষ চক্রকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ বাজারসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর গ্রামে এক ঝটিকা অভিযানে চক্রের সর্দারসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। অভিযানে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পিকআপ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মহাসড়কের পাশে ১৪-১৫ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত বড় ধরনের ডাকাতির ছক কষছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই পবিত্র সরকার, এসআই তৌকিক হোসেন ও এসআই অর্ণব কুমারের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের মধ্যে সাতজনকে আটক করা হয়। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চক্রের বাকি সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতদের মধ্যে চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দাউদকান্দির টামটা গ্রামের মো. সাদ্দাম হোসেনকে (৩২)। অন্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সুমন (৩০), মো. নজরুল ইসলাম দুলাল (২৮), মো. সোলেমান ওরফে রুবেল (৩৫), ফকির আহমেদ ওরফে আলাউদ্দিন (৫৫), মামুনুর রশিদ সোহাগ (৩৫) এবং মো. শাহীন (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারের পর ডাকাত সর্দার সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার হাইড্রোলিক কাটার, ছেনি, দা, ছুরি এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নীল-হলুদ রঙের একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের নেটওয়ার্ক বেশ বড় এবং তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত। পলাতক বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতির ধারায় মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।