বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি)-কে আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই সিদ্ধান্ত টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ফার্স্টকম বিডির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ওপর ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ আরোপ করা হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি আইজিডব্লিউ অপারেটরদের কাছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার এবং বিটিআরসির কাছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বকেয়া ছিল।
পরবর্তীতে আংশিক বকেয়া পরিশোধের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে পূর্বে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না। খাত সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিটিআরসি নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ ফার্স্টকম বিডিকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা অনেকের কাছে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া নিষ্পত্তি নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আংশিক অর্থ পরিশোধ ও বাকি অর্থ কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট অপারেটররা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া সম্পদের মাধ্যমে ফার্স্টকম বিডির উল্লেখযোগ্য শেয়ার নিয়ন্ত্রিত। এতে কার্যক্রম চালুর অনুমোদন কতটা আইনসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।