বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুম রহস্যে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ নিজের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও গুমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ডিবি তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের র্যাব-১ সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো এক রাতে তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, গুমের আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং একটি বিশেষ টিম এ অভিযানে অংশ নেয়। র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের কিছু সদস্য এতে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। গুম অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। তবে তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ বা আত্মগোপনে রয়েছেন।
প্রায় ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ভাগ্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছিল।