২০২৫ সালে দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক চিত্র প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। বিগত বছরে মোট ৭ হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৪৭৬ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। মোট নিহতের মধ্যে নারী ছিলেন ৯৬২ জন বা ১৩ শতাংশ এবং শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৮ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ১৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। দুর্ঘটনার সংখ্যার দিক থেকেও মোটরসাইকেলই শীর্ষে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পথচারী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পাশাপাশি চালক ও সহকারী মিলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৪১ জন। এই পরিসংখ্যান সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তাহীনতা, ঝুঁকি ও দুর্বলতার দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য উপস্থাপন করেন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওই প্রতিবেদনে সড়কের পাশাপাশি নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানির উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ১৩২টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত এবং ১২৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় নিখোঁজ হয়েছেন আরও অন্তত ৩৪ জন। অন্যদিকে, ৫১৯টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৭৮ জনের এবং আহত হয়েছেন ১৫২ জন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী ও চালকদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে থ্রি-হুইলারের যাত্রী। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। মোট দুর্ঘটনার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ঘটেছে এই দুই ধরনের সড়কে।
দুর্ঘটনার ধরনে নিয়ন্ত্রণ হারানোই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এসব দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত ছিল পণ্যবাহী যান, মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১২ হাজার ৩৮৯টি যানবাহন জড়িত ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, চালক প্রশিক্ষণ এবং আইন প্রয়োগ জোরদার না হলে এই প্রাণহানির স্রোত থামানো কঠিন।