Ridge Bangla

চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব আবদুল লতিফ বাচ্চু ইন্তেকাল করেছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

আবদুল লতিফ বাচ্চু চলচ্চিত্র শিল্পের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য এবং মৃত্যুকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিল্পের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ও বিচক্ষণতা তাঁকে এক অনন্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। সরকারের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড (সার্টিফিকেশন বোর্ড) এবং জুরি বোর্ডে তাঁর অবদান প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া চলচ্চিত্র ও নাটকের বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে তিনি বারবার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে।

আবদুল লতিফ বাচ্চুর জন্ম ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি, সিরাজগঞ্জে। চলচ্চিত্রে তাঁর পদযাত্রা শুরু হয় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’ ও ‘দর্পচূর্ণ’ চলচ্চিত্রে তিনি সহকারী চিত্রগ্রাহকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম একক চিত্রগ্রাহক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনায় ও কাজী জহিরের পরিচালনায় নির্মিত ‘অবুঝ মন’ চলচ্চিত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। পরবর্তীতে ‘বলবান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালনা জগতে প্রবেশ করেন।

তিনি ‘যাদুর বাঁশি’ (যেটি বাচসাস পুরস্কার লাভ করে), ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’-এর মতো চলচ্চিত্র পরিচালনা করে শিল্পীদের হৃদয়ে আসন করে নেন। তাঁর শিল্পসাধনা চলচ্চিত্রকর্মীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আদর্শবান এই মানুষটি বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি বাচসাস পুরস্কার ছাড়াও চ্যানেল আই কর্তৃক প্রদত্ত ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ লাভ করেন।

আবদুল লতিফ বাচ্চুর মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হওয়া কঠিন। শিল্পের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতা চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও দর্শকদের মনে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

This post was viewed: 29

আরো পড়ুন