Ridge Bangla

মহাখালী নার্সিং কলেজের বিরুদ্ধে পরীক্ষক তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের আগস্ট ২০২৫ সেশনের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পরীক্ষক তালিকা ঘিরে সরকারি কলেজ অব নার্সিং, মহাখালী (ঢাকা)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও পরীক্ষক তালিকায় মহাখালী নার্সিং কলেজের শিক্ষকদের নাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দৃষ্টিকটূভাবে বৈষম্যমূলক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক নিজ কলেজে নিজ বিষয়ের ইন্টারনাল পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, মহাখালী নার্সিং কলেজের কয়েকজন শিক্ষক একই সঙ্গে নিজ কলেজে বিভিন্ন বিষয়ের ইন্টারনাল এবং অন্যান্য কলেজে এক্সটারনাল পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা স্পষ্ট নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া ডিজি নার্সিংয়ের অনুমতি ছাড়া তারা নিজ কলেজের নিয়মিত ক্লাস ও দায়িত্ব এড়িয়ে ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিং কলেজে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, যেসব বেসরকারি কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেসব কলেজেই মহাখালী নার্সিং কলেজের নির্দিষ্ট শিক্ষকদের বেশি সংখ্যক পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা একদিনে নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য মানদণ্ডের পরিপন্থী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বেসরকারি কলেজ থেকে ক্লাস ও পরীক্ষার বিনিময়ে অর্জিত অর্থ আয়কর নথিতে দেখানো হচ্ছে না, ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিষিদ্ধ থাকা কয়েকজন শিক্ষক আদালতের আদেশ অমান্য করে পুনরায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এক অনভিজ্ঞ প্রিন্সিপাল কলেজে যোগদান করলেও কার্যত দুজন জুনিয়র শিক্ষক কলেজ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দুই শিক্ষক পরীক্ষক তালিকা প্রণয়নে বেসরকারি শিক্ষকদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের কলেজের শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, মহিলা হোস্টেলে পুরুষ শিক্ষকদের আবাসনের সুযোগ দেওয়া এবং গবেষণা বিষয়কে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিজি নার্সিং ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টির ডিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

This post was viewed: 23

আরো পড়ুন