আজ ১ ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস। প্রতি বছর এ দিনে এইচআইভি/এইডসে মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণ করা হয় এবং বর্তমানে ভাইরাস বহনকারী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে, নতুনভাবে এইডস প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এইচআইভি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালের শেষে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। একই বছরে নতুনভাবে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ মানুষ, আর এইডস-সম্পর্কিত জটিলতায় মারা গেছেন প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকে এখনও বঞ্চিত প্রায় ৯২ লাখ আক্রান্ত ব্যক্তি। বিশেষত শিশু, কিশোর-কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকার, এবং অর্থসংকট বৈশ্বিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তবে আশা জাগানো নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি সামনে আনছে ইতিবাচক নানা দিক। দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন-ভিত্তিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ অনেক রোগীর জন্য আরও সহজ ও ধারাবাহিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এইডস মোকাবিলা কেবল চিকিৎসা নয়। এটি মানবাধিকার, ন্যায়, সমতা ও সামাজিক সহমর্মিতার বিষয়।
১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে এই দিবস। বাংলাদেশেও দিনটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।