চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইআরএলের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আধুনিকায়নের পর রিফাইনারিতে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি হেভি ও লাইট ক্রুড অয়েল ব্লেন্ডিং সুবিধা যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাড়তি নমনীয়তা আসবে এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।