Ridge Bangla

হাতে হাতে অস্ত্র, পরিস্থিতির অবনতিতে ঢাকার ৫ অঞ্চলকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় জুমার নামাজের পর চলন্ত রিকশায় মাথা লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই খুলনায় একইভাবে মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয় খুলনা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারকে, যে ঘটনায় তিনি আহত হন।

এর আগে গত কয়েক মাসে এভাবেই প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া, দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন, পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের মসলা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের মতো অনেককে। এ সময় সন্ত্রাসীদের ওপেন শুটিংয়ে আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গোলাগুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা (৪৩) নিহত হন।

দেখা যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে এভাবেই দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতেও দেখা যাচ্ছে অস্ত্র। সন্ত্রাসীদের হাতে হাতে অস্ত্র দেশবাসীকে ফেলছে জীবনের শঙ্কায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং টার্গেট কিলিংয়ের মতো অপরাধে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া মোট অস্ত্রের এক হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখন অপরাধীদের হাতে চলে গেছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব অস্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়েও অবৈধ অস্ত্রের চালান আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা পর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জানিয়েছেন, রুটিন কাজের বাইরেও এখন বিশেষ অভিযানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ৫০টি থানা এলাকায় অন্তত সাড়ে চারশ তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে। তাদের সহযোগীদের কাছে দেড় হাজারেরও বেশি অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, শ্যামপুর এবং যাত্রাবাড়ীকে ‘রেড জোন’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ এসব এলাকায় বড় ধরনের অভিযানে নামার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জের চনপাড়া, মোহাম্মদপুর এবং ডেমরার শুটার বাহিনীর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

অস্ত্রের দাপট এবং টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা গানম্যানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। সরকারি তথ্যমতে, অতি সম্প্রতি নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকা ২০ জন ব্যক্তিকে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে রাজপথ থেকে অবৈধ অস্ত্র নির্মূল করার কোনো বিকল্প নেই। আগামী কয়েক দিনে এই অভিযান আরও দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

This post was viewed: 22

আরো পড়ুন