Ridge Bangla

স্বাগতম ২০২৬: নতুন বছরে নতুন শুরুর প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার

ইংরেজি নববর্ষ মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি পাতা উল্টে যাওয়া নয়; এটি নতুন করে ভাবা, নতুন করে পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি বিশ্বজুড়ে এসেছে নতুন আশা, উদ্দীপনা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে। অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তায় ক্লান্ত বর্তমান বিশ্বে নতুন বছর যেন মানবতা, শান্তি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সম্মিলিত স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে।

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো। প্রাচীন ব্যাবিলন সভ্যতায় এর সূচনা হলেও খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ১ জানুয়ারিকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে পোপ গ্রেগরি অষ্টমের প্রবর্তিত গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়। জানুয়ারি মাসের নামকরণও হয়েছে রোমান দেবতা ‘জানুস’-এর নামে, যিনি অতীত ও ভবিষ্যতের প্রতীক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উদযাপনের রীতি ভিন্ন হলেও আনন্দ ও আশার প্রকাশ সর্বত্রই অভিন্ন। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বল ড্রপ, সিডনিতে আতশবাজি, জাপানে মন্দিরে ঘণ্টাধ্বনি কিংবা ইউরোপের নানা লোকজ উৎসব- সবই নতুন শুরুর বার্তা বহন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ায় আতশবাজির বদলে লেজার শো ও পরিবেশবান্ধব আয়োজনের দিকেই ঝুঁকছে বিশ্ব।

বাংলাদেশেও ২০২৬ সালের নববর্ষ এসেছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রত্যাশা ঘিরেই নতুন বছরের সূচনা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীতানুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে শৃঙ্খলাও বজায় থাকে।

তবে নববর্ষ উদযাপনে অতিরিক্ত শব্দ, আতশবাজি ও ককটেলের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। উচ্চশব্দ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য তা বিপজ্জনক। পশুপাখির ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই আনন্দ হোক শান্তিময় ও মানবিক- এটাই সময়ের দাবি।

২০২৬ সালকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বৈশ্বিকও। যুদ্ধ, হিংসা ও বৈষম্য পেছনে ফেলে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিশ্ব গড়ার আকাঙ্ক্ষাই নতুন বছরের মূল বার্তা। বাংলাদেশেও রাজনীতির সহনশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করছেন মানুষ। নতুন বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিবর্তনের শুরুটা নিজেকেই করতে হয়। ধ্বংস নয়, সৃষ্টির পথে হাঁটার প্রতিজ্ঞা নিয়েই ২০২৬ সালকে বরণ করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের সুন্দর সম্ভাবনা।

This post was viewed: 7

আরো পড়ুন