রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক পদার্থের চোরাচালান গত কয়েক মাসে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনি সহিংসতায় ব্যবহারের লক্ষ্যেই এসব মারণাস্ত্র আনা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী ২৭ জেলায় ৭৮৭ জন লাইনম্যান বা অস্ত্র কারবারির তালিকা তৈরি করে নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সীমান্তের অন্তত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, যা পাচারকারীদের কাজ সহজ করে দিচ্ছে। এখন এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধ কারবারিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নাইন এমএম পিস্তলসহ আধুনিক অস্ত্র দেশে আনছে।
বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে শুধুমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় ৪১টি গুলি এবং সাড়ে ৯ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি গত কয়েক মাসে রাজশাহী ও এর আশপাশে বেশ কিছু বড় অস্ত্রের চালান ধরা পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, গত বছরের শেষ দিকে বনলতা এক্সপ্রেস থেকে সেনাবাহিনীর আটটি বিদেশি পিস্তল ও গানপাউডার উদ্ধার। এছাড়া চলতি জানুয়ারি মাসে রাজশাহীর সিটিহাট এলাকা ও শিবগঞ্জের আজমতপুর সীমান্ত থেকে বেশ কিছু ওয়ান শুটার গান ও বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাগমারায় এক অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
পুলিশের করা নতুন তালিকায় দেশের সীমান্তবর্তী ২৭টি জেলার অস্ত্র চোরাকারবারিদের নাম উঠে এসেছে। এই তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৮ জন, জয়পুরহাটের ১৬ জন, নওগাঁর ১৯ জন এবং রাজশাহীর ৩ জন পেশাদার কারবারি রয়েছেন। বাকিরা সীমান্তবর্তী অন্যান্য জেলার। এদের অধিকাংশকেই পুলিশ ও বিজিবি ছায়া নজরদারিতে রেখেছে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজিবির রাজশাহী ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, দুর্গম সীমান্ত ও নদীপথে নজরদারি বাড়াতে স্পিডবোট টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের ছুটি কমিয়ে সীমান্তবর্তী পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে।