শীতকালে ঠান্ডা পানি পান করা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় থাকে। প্রকৃতপক্ষে, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য শীতে ঠান্ডা পানি পান করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ঠান্ডা পানি পান কি ক্ষতিকর?
সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য: সাধারণত ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না। শরীর তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
অস্বস্তির সম্ভাবনা: ঠান্ডা পানি গলা জ্বালা, কাশি বা বুকে হালকা টান তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের গলা সংবেদনশীল বা শ্বাসনালির সমস্যা রয়েছে।
হজম ও শরীরের উপর প্রভাব
হজম প্রক্রিয়া: অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি হজম প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করতে পারে, কারণ শরীর প্রথমে পানি উষ্ণ করে তারপর হজমে সহায়তা করে। এতে পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা: শীতকালে শরীর প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ থাকতে চায়। খুব ঠান্ডা পানি শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
যাদের সতর্ক থাকা উচিত
বয়স্ক ব্যক্তি, সর্দি-কাশি, সাইনোসাইটিস বা গলা ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তি। আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথায় ভোগা রোগী। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি। হজম সংবেদনশীলতা (যেমন: অ্যাসিডিটি, বদহজম) রয়েছে এমন ব্যক্তি।
পরামর্শ
- হাইড্রেশন বজায় রাখুন: শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করুন।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: সম্ভব হলে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা হালকা গরম পানি পান করুন।
- শরীরের সংকেত মনোযোগ দিন: যদি ঠান্ডা পানি পান করলে অস্বস্তি হয়, তবে তা এড়িয়ে চলুন।
- গ্রিন টি বা ভেষজ চা: শীতকালে উষ্ণ পানীয় শরীরের জন্য আরও আরামদায়ক হতে পারে।
শীতকালে ঠান্ডা পানি পান করা সাধারণভাবে নিরাপদ, তবে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা ও আরামদায়ক অনুভূতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করার তাপমাত্রা নির্ধারণ করাই শ্রেয়।