নভেম্বরের প্রথম দিনেই কালো মেঘে ঢেকে যায় রাজধানীর আকাশ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, যানজট ও জনদুর্ভোগ। ছাতা ছাড়াই বাইরে বের হওয়া মানুষজন পড়েন বিপাকে।
শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে টাঙ্গাইলে ৫৭ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির গণমাধ্যমকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও তার প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা, কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে এবং যান চলাচলে মারাত্মক ধীরগতি দেখা দেয়। অফিসফেরত কর্মজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা জানান, ঘূর্ণিঝড় মোন্থার অবশিষ্ট প্রভাবের কারণে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আজ দুপুর থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা আগামী কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতেই এ ধরনের বৃষ্টি মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব নির্দেশ করে। তবে বৃষ্টি উপকূলীয় জেলাগুলোর তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এবং শীতের আগমন জানান দিচ্ছে।