দীর্ঘ দেড় যুগ নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান দেশে ফিরে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং এর মধ্য দিয়ে তিনি আবারও বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তার এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন তাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তাকে “Bangladesh’s Prodigal Son” বা ‘বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তিত সন্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর রাজনীতিতে শক্তিশালী ফিরে আসাকে নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বোঝাতে তার পছন্দের একটি সিনেমার উক্তি ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সেই সিনেমাটি তিনি মোট আটবার দেখেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বভাবগতভাবে মৃদুভাষী ও অন্তর্মুখী। তিনি আদালতে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে শুনানিতে অংশ নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। লন্ডনে অবসর সময়ে তিনি রিচমন্ড পার্কে হাঁটাহাঁটি করা, চিন্তায় মগ্ন থাকা ও ইতিহাসের বই পড়তে পছন্দ করতেন। তার প্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’, যা তিনি প্রায় আটবার দেখেছেন।
এতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান একজন তথ্যভিত্তিক ও দূরদর্শী নীতিনির্ধারক। তিনি জলস্তর পুনরুদ্ধারে ১২,০০০ মাইল খাল খনন, ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ এবং রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়নে ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ উৎপাদন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ কমাতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্বের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, তার প্রত্যাবর্তন কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অভিযোগের ফল নয়; বরং জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দৃঢ় দায়বদ্ধতা থেকেই অনুপ্রাণিত। এই দায়বদ্ধতা বোঝাতে তিনি স্পাইডার-ম্যানের উক্তি ব্যবহার করেন, “মহান শক্তির সঙ্গে মহান দায়দায়িত্ব আসে।”