পৌষের মিষ্টি আবহে বাড়িতে তৈরি করুন এই ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা। পরিবার ও অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করুন শীতের একটি মজাদার মুখরোচক।
উপকরণ
চালের গুঁড়া – ৪ কাপ
খেজুরের গুড় (কুচি করা) – ২ কাপ
কোরানো নারকেল – ১ কাপ
লবণ – স্বাদমতো
পানি – প্রয়োজনমতো
প্রস্তুত প্রণালি
১. চালের গুঁড়া প্রস্তুত করা:
একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়া নিন। ১ কাপ পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এবার চালের গুঁড়ায় আস্তে আস্তে লবণমিশ্রিত পানি দিয়ে মাখুন। মাখার সময় লক্ষ্য রাখুন, গুঁড়া যেন হাতে চেপে ধরলে একসাথে জমে (মুঠো বাঁধে)।
২. গুঁড়া ছেঁকে নেওয়া:
মাখানো চালের গুঁড়া একটি চালনিতে নিয়ে হাত দিয়ে ডলে ডলে ছাকুন। এতে পিঠা হবে নরম ও ঝুরঝুরে।
৩. ভাপ দেওয়ার প্রস্তুতি:
একটি মাঝারি আকারের হাঁড়িতে অর্ধেক পর্যন্ত পানি দিন এবং চুলায় বসান। পানি ভালোভাবে ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। হাঁড়ির মুখে ভাপা পিঠার জন্য ব্যবহৃত ছিদ্রযুক্ত বিশেষ ঢাকনা (বা স্টিমার) বসিয়ে দিন।
৪. ভর্তি প্রস্তুত করা:
একটি বাটিতে চালের গুঁড়া, কোরানো নারকেল ও খেজুরের গুড়ের কুচি একসাথে ভালোভাবে মেশান।
৫. পিঠা ভাপা:
ছোট একটি বাটি নিন, তাতে চালের গুঁড়া সামান্য ছিটিয়ে একটি পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে মুড়ে নিন। এবার এই বাটিটি উপুড় করে ছিদ্রযুক্ত ঢাকনার ওপর বসান এবং বাটি তুলে ফেলুন (কাপড়টিই ঢাকনার ওপর থাকবে)। কাপড়ের ওপর পূর্বে প্রস্তুত করা নারকেল-গুড়ের মিশ্রণ সমানভাবে বিছিয়ে দিন। হাঁড়ির মুখে ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন।
৬. সিদ্ধ হওয়া:
মাঝারি আঁচে ১৫–২০ মিনিট ভাপ দিন। পিঠা সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে একটি প্লেটে সরিয়ে নিন।
গরম গরম ভাপা পিঠা পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে সামান্য কোরানো নারকেল ছড়িয়ে দিতে পারেন।
সতর্কতা
চালের গুঁড়া মাখার সময় বেশি পানি দেওয়া যাবে না, নইলে পিঠা শক্ত হয়ে যেতে পারে। গুড়ের পরিবর্তে চিনি বা খাড়িও ব্যবহার করা যায়। পিঠা বেশি সময় রেখে না খাওয়াই ভালো, টাটকা খেতে সবচেয়ে স্বাদু।