চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার দিবাগত রাতে পরিষদের দুই নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি চুক্তি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে পণ্য খালাসের স্বার্থে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের শাস্তি, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্তের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে এনসিটি পরিচালনা বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয় দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর রোববার আবার লাগাতার ধর্মঘট শুরু হলে বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।