আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ১ হাজার ৮৪৩ জন প্রার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রাম থেকে শহর। তবে নির্বাচনী প্রচারণার ডামাডোলের মধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্ভাব্য সহিংসতা। এই পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সময় ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা ফজরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘাত ও প্রচারণায় বাধার অভিযোগ আসায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে। এতে নড়েচড়ে বসেছে দেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনে রয়েছেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এরই মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় জরিমানাও করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ভোটের উৎসবে যারা বিঘ্ন ঘটাবে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হলো একে সহিংসতামুক্ত রাখা। দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে দেশে। এর স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ২৪-এর ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশের যে অঙ্গীকার, তার প্রতিফলন এই নির্বাচনে থাকা জরুরি। কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা প্রতিহিংসার রাজনীতি যেন নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ম্লান না করে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, নির্বাচনে মৌখিক বা শারীরিক যে কোনো ধরনের সংঘাত আমাদের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে প্রশাসন ও প্রার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো গুজব বা অপপ্রচার রোধেও কাজ করছে সাইবার ইউনিটগুলো।