মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের বিতর্কিত ‘তেল চুরি’ মন্তব্যে ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকছে। মিলার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ। তিনি দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির তেলশিল্প জাতীয়করণকে ‘চুরি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্টিফেন মিলার এসব কথা বলেন। তার এই মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার পেছনে মাদক পাচারই যে মূল কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবি আরও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার লেখেন, ‘আমেরিকানদের ঘাম, মেধা ও শ্রম দিয়েই ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প গড়ে উঠেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই শিল্পের জবরদখল ছিল আমেরিকার সম্পদ ও সম্পত্তির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি। পরে এই লুট করা সম্পদ সন্ত্রাসে অর্থ জোগাতে এবং খুনি, ভাড়াটে যোদ্ধা ও মাদক আমাদের রাস্তায় ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে।’
তবে আন্তর্জাতিক আইনের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতিমতে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে থাকা তেল ওই দেশেরই সম্পদ। যদিও শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি কোম্পানি সেখানে তেল অনুসন্ধানে যুক্ত ছিল।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে নিন্দা জানায় কারাকাস।
এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌযানে বোমা হামলা চালিয়েছে, সেগুলোকে তারা মাদক পাচারের নৌকা বলে দাবি করেছে। তবে অনেক আইন বিশেষজ্ঞ একে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এই নৌ-হামলার লক্ষ্য মাদুরো সরকারকে উৎখাত করা। ওয়াইলস বলেন, ‘মাদুরো আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত নৌকাগুলো উড়িয়ে দিতে চান’ ট্রাম্প।