বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর সদস্য দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সহজ ও নির্বিঘ্ন বিনিময় কর্মসূচি নিশ্চিত করতে “বিমসটেক উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক” গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে “ব্রিজিং রিজিয়ন্স, বিল্ডিং ফিউচার্স: বিমসটেক আন্ডার দ্য স্পটলাইট” শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে সেশন চেয়ারের বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বিমসটেক সেক্রেটারিয়েট।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ ধরনের একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে সদস্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ ডিগ্রি চালু, শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট স্থানান্তর সহজ করা এবং সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। অথচ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও একাডেমিক বিনিময় সীমিত।” এই পরিস্থিতি উত্তরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, জলবায়ু ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের এই সময়ে অঞ্চলজুড়ে মেধাবী ও নীতিনির্ধারকদের একত্রিত করা অপরিহার্য। তাঁর মতে, ডিজিটাল সংযোগ, ব্লু ইকোনমি, স্টেম শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো খাতে যৌথ উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর কেবল ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং এটি আঞ্চলিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে মানবসম্পদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে উচ্চশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উচ্চশিক্ষাকে আঞ্চলিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এ ধরনের সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন সময় সুনির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যৌথ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা জোরদার করার।