চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে জানায়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, গত দু’দিনে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ বেড়েছে। সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা, সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’; এ সীমা লঙ্ঘিত হলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পৃথক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী দেশটির অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র ভূমিকার অভিযোগ তোলে। সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পদ সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ইরানি রিয়েলের দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনঅসন্তোষ চরমে ওঠে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারে ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সরকার শুরু থেকেই এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।