বলিউডের ‘বাদশাহ’ শাহরুখ খান আজ (রোববার) পা রাখলেন ৬০ বছরে। জন্মদিনে গোটা ভারতজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ, আর সেই আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। কারণ, শাহরুখ খান শুধু ভারতের নন—তিনি বাংলাদেশেরও প্রিয় ‘ঘরের মানুষ’।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে যখন বাংলাদেশের মফস্বল শহরগুলোতে কেবল নেটওয়ার্কের যুগ শুরু হয়, তখন থেকেই বাঙালির ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েন শাহরুখ খান। ‘হামকো হামিসে চুরালো’, ‘সুরাজ হুয়া মাধম’, ‘লাড়কি হ্যায় আল্লাহ’, কিংবা ‘বলো চুরিয়া’—এই গানগুলোতে মোহিত হয়েছিল পুরো প্রজন্ম। তার সেই দুই হাত ছড়ানো ভঙ্গি, মায়াভরা চোখ আর মিষ্টি হাসি হয়ে উঠেছিল প্রেমের প্রতীক।
টেলিভিশনের পর্দা ছাড়িয়ে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে জীবনের প্রতিটি পরতে। পাড়ার ক্যাসেটের দোকানে বিক্রি হতো শাহরুখের সিনেমার সিডি, দেয়ালে টাঙানো থাকত তার পোস্টার, এমনকি খেলনা গাড়িতেও দেখা যেত তার মুখ। বাংলাদেশের ছোট শহরের সেলুনগুলোতেও তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা—অনেকে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ বা ‘কাল হো না হো’-এর স্টাইলে চুল কাটতেন।
অর্থাৎ, তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রজন্মের ফ্যাশন আইকন ও সাংস্কৃতিক প্রতীক। আজও দেশের অজপাড়াগাঁয়ে কোনো তরুণ চুল কাটার সময় তার ছবির দিকে তাকিয়ে হাসে—এই দৃশ্যই প্রমাণ করে, শাহরুখ খান কেবল এক পর্দার নায়ক নন, বরং স্মৃতিতে গেঁথে থাকা এক আবেগের নাম।
৬০ বছর বয়সে পৌঁছে তিনি এখন গ্লোবাল সুপারস্টার, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রয়ে গেছেন সেই চেনা, আপন, ‘ঘরের মানুষ’ শাহরুখ খান।